Tuesday, 18 August 2015

সদাকা ও যাকাত: পার্থক্য ও ফযীলত


 সদাকা ও যাকাত: পার্থক্য ও ফযীলত
আব্দুর রাক্বীব (বুখারী-মাদানী)
দাঈ, দাওয়াহ সেন্টার, খাফজী, সউদী আরব
সম্পাদনায়: আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
সাদাকা বলতে কি বুঝায়?
‘সাদাকা’ শব্দটির সাধারণ বাংলা অর্থ হল ‘দান’। জুরজানী বলেন: পারিভাষিক অর্থে সাদাকা বলা হয়, এমন দানকে যার মাধ্যমে আল্লাহর নিকট সওয়াব আশা করা হয়। [আত্ তা’রীফাত/১৩৭] তবে শরীয়তে দান সাধারণত: দুই ভাগে বিভক্ত; একটি এমন দান যা বিশেষ কিছু শর্তে মুসলিম ব্যক্তির বিশেষ কিছু সম্পদে ফরয হয়, যা থেকে একটি নির্দিষ্ট অংশ দান করা তার উপর অপরিহার্য হয়। এমন দানকে বলা হয় যাকাত। আর অন্য দানটি এমন যে, মুসলিম ব্যক্তিকে তা করতে উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে কিন্তু তার উপর অপরিহার্য করা হয়নি। এমন দানকে বলা হয় সাদাকা। তবে শরীয়ার ভাষায় অনেক ক্ষেত্রে ফরয যাকাতকেও সাদাকা বলার প্রচলন আছে।
যাকাত ও সাদাকার মধ্যে পার্থক্য:
  • ১-ইসলাম নির্দিষ্ট কিছু জিনিসে যাকাত জরুরি করেছে, তা হল: স্বর্ণ-রৌপ্য, খাদ্যশস্য, ব্যবসার সামগ্রী এবং চতুষ্পদ পশু –উট, গরু এবং ছাগল-। কিন্তু সাদাকা বিশেষ কিছুতে সীমাবদ্ধ নয়; মানুষ তার সাধ্যানুযায়ী বিভিন্ন কিছুর মাধ্যমে তা দিতে পারে।
    ২-যাকাতের কিছু শর্ত রয়েছে, তা বিদ্যমান থাকলেই যাকাত জরুরি হয়। যেমন এক বছর অতিক্রম করা, নিসাব পরিমাণ হওয়া এবং বিশেষ পরিমাণে তা বের করা। কিন্তু সাদাকার এমন কোনও শর্ত নেই, তা যে কোনও সময়ে এবং যে কোনও পরিমাণে দেওয়া বৈধ।
    ৩- আল্লাহ তায়ালা যাকাতের খাদ নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন তাই যাকাত কেবল তাদেরই দিতে হবে। আর তারা হচ্ছেন যথাক্রমে: ফকীর, মিসকিন, যাকাত উসুল কারী কর্মচারী, যাদের মন জয় করা উদ্দেশ্য (যেমন ইসলামে আগ্রহী কিংবা নওমুসলিম), দাসমুক্তি, ঋণগ্রস্ত, জিহাদ এবং মুসাফির। [সূরা তাওবা/৬০] কিন্তু সাদাকা বর্ণিত উপরোক্তদেরও দেওয়া বৈধ এবং এছাড়া অন্যদেরও।
    ৪-যাকাত জরুরি ছিল এমন ব্যক্তি মারা গেলে তার ওয়ারিশদের উপর জরুরি হয় যে, তারা তার সম্পদ বণ্টনের পূর্বে সেই সম্পদ থেকে প্রথমে যাকাতের অংশ বের করবে অতঃপর বাকী সম্পদ বণ্টন করবে কিন্তু তাদের উপর সাদাকা স্বরূপ কিছু বের করা জরুরি হয় না।
    ৫-যাকাত আদায় না কারীরর জন্য শাস্তির বর্ণনা এসেছে। (সহীহ মুসলিম নং ৯৮৭) কিন্তু সাদাকা বর্জনকারীর শাস্তির কথা উল্লেখ হয় নি।
    ৬-ইমাম চতুষ্টয়ের ফতোয়ানুযায়ী যাকাত উসুল ও ফুরূকে (মূল ও গৌণদের) দেওয়া নিষেধ। মীরাছের অধ্যায়ে কোনও ব্যক্তির উসুল বলতে তার মাতা, পিতা, দাদা ও দাদীদেরকে বুঝায় এবং ফুরূ বলতে নিজের সন্তান ও সন্তানদের সন্তানকে বুঝায়। কিন্তু সাদাকা উসুল ও ফুরূ সকলকে দেওয়া বৈধ।
    ৭-যাকাত ধনী এবং শক্তিশালী রোজগারকারী ব্যক্তিকে দেওয়া নিষেধ। (আবু দাঊদ নং ১৬৩৩, নাসাঈ, নং ২৫৯৮) কিন্তু সাদাকা তাদেরও দেওয়া বৈধ।
    ৮-কাফের মুশরিককে যাকাত দেওয়া অবৈধ কিন্তু সাদাকা তাদেরও দেওয়া যায়। (সূরা দাহরের ৮ নং আয়াতের তফসীরে ইমাম কুরতুবীর তফসীর দ্রষ্টব্য)।
    ৯-যাকাত নিজ স্ত্রীকে দেওয়া অবৈধ। ইবনুল মুনযির এ সম্পর্কে ঐক্যমত্য বর্ণনা করেছেন। কিন্তু সাদাকা নিজ স্ত্রীকেও দেওয়া বৈধ… ইত্যাদি পার্থক্য প্রমাণিত।
সাদাকার ফযীলতঃ 
আল্লাহ তায়ালা বলেন:
“যারা রাতে-দিনে গোপনে ও প্রকাশ্যে তাদের মাল-সম্পদ খরচ করে, তাদের জন্য তাদের প্রতিপালকের নিকট বদলা রয়েছে, তাদের কোন ভয় নেই এবং তারা চিন্তিতও হবে না।” [সূরা বাকারাহ/২৭৪]
১-সাদাকা ধন-সম্পদ ও রিজিক বৃদ্ধির কারণ: আল্লাহ তায়ালা বলেন: (আল্লাহ তায়ালা সুদকে বিলুপ্ত করেন এবং সাদাকাকে বৃদ্ধি করেন।) [বাকারাহ/২৭৬] এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: “সাদাকা কোনও মালকে হ্রাস করে না”। [মুসলিম, নং ২৫৮৮]
২-সাদাকা রোগ থেকে আরোগ্যে পাওয়ার কারণ: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: “সাদাকার মাধ্যমে রোগীদের চিকিৎসা করো”। [স্বাহীহ আল জামি, শাইখ আলবানী হাসান বলেছেন]
৩-সাদাকা সাদাকারীর সঠিক ঈমানের প্রমাণ: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: “সাদাকা হচ্ছে প্রমাণ”। [মুসলিম, স্বহীহ আল জামি নং ৩৯৫৭]
৪-সাদাকা পুণ্য ও তাকওয়া অর্জনের উপায়: আল্লাহ তায়ালা বলেন: (তোমরা তোমাদের প্রিয় বস্তু খরচ না করা পর্যন্ত কক্ষনো পুণ্য লাভ করবে না) [আল্ ইমরান/৯২]
৫-সাদাকা আত্মাকে পাক ও পরিশুদ্ধ করে: আল্লাহ তায়ালা বলেন: (তাদের সম্পদ থেকে সাদাকাহ গ্রহণ করবে যাতে তা দিয়ে তাদের পবিত্র ও পরিশুদ্ধ করতে পার।) [তাওবা/১০৩]
৬-সাদাকা কিয়ামত দিবসে সাদাকাকারীকে সূর্যের তাপ থেকে ছায়া করবে: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: “প্রত্যেক ব্যক্তি তার সাদাকার ছায়াতলে থাকবে যতক্ষণে লোকদের মাঝে ফয়সালা শেষ না হয়”। [আহমদ, শাইখ আলবানী স্বহীহ বলেছেন, স্বহীহ আল জামি নং ৪৫১০] অন্য হাদীসে সাত প্রকারের লোক আরশের ছায়াতলে স্থান পাবে বলে উল্লেখ হয়েছে, তন্মধ্যে এক ব্যক্তি সে যে, “গোপনে এমন ভাবে সাদাকা করে যে, তার ডান হাত যা খরচ করে তার বাম হাত জানতে পারে না”। [বুখারী, (১৪২৩) মুসলিম(১০৩১)]
৭-সাদাকা করা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর বৈশিষ্ট: ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সবচেয়ে বেশী দানশীল ছিলেন এবং তাঁর দানশীলতা আরও বৃদ্ধি পেত, যখন রামাযান মাসে ফেরেশতা জিবরীল তাঁর সাথে সাক্ষাত করত”। [বুখারী, নং (৬) মুসলিম]
৮-সাদাকা হচ্ছে আত্মীয়তা বজায় রাখা: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: “কোনও এক মিসকিনকে সাদাকা করা একটি সাদাকা আর তা আত্মীয়কে করা একটি সাদাকা ও একটি আত্মীয়তা”। [আহমাদ, নাসাঈ, তিরমিযী, নং (৬৫৮) ইবনে কাসীর হাদীসটির সূত্রকে স্বহীহ বলেছেন]
৯-সাদাকা বিপদ থেকে নিরাপদে রাখে এবং আল্লাহর ক্রোধ নিভিয়ে দেয়: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: “ সওয়াবের কাজ বিপদাপদ থেকে নিরাপদে রাখে, গোপন ভাবে সাদাকা করা প্রতিপালকের ক্রোধ নিভিয়ে দেয় এবং আত্মীয়তা বজায় রাখা বয়স বৃদ্ধি করে”। [স্বহীহুত্ তারগীব ওয়াত্ তারহীব]
১০-সাদাকা অন্তরের নিষ্ঠুরতার চিকিৎসা: একদা এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নিকট তার অন্তরের কঠোরতার অভিযোগ করলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে বলেন: “ইয়াতীমের মাথায় হাত বুলাও এবং মিসকিনদের খাদ্য দান করো”। [আহমদ, নং (৭৫৬৬, হাসান স্বহীহ আল জামি নং ১৪১০]
১১-সাদাকা কিয়ামতের দিনে জাহান্নাম থেকে বাঁচার কারণ: (আর তারা আল্লাহর প্রতি তাদের ভালবাসার কারণে মিসকিন, ইয়াতীম ও কয়েদীকে খাবার খাওয়ায়। …. যার ফলে আল্লাহ তাদের সে দিনের অনিষ্ট হতে রক্ষা করবেন আর তাদের দিবেন সজীবতা ও আনন্দ।) [সূরা দাহর/৯ ও ১১] হাদীসে বর্ণিত হয়েছে, জাহান্নাম থেকে বেঁচে থাক যদিও অর্ধেক খেজুরও সাদাকা করে হয়”। [মুত্তাফাক আলাইহি]
১২-সাদাকা পাপ মোচন করে এবং তা গুনাহের কাফফারা স্বরূপ: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: “এবং সাদাকা পাপ মুছে দেয় যেমন পানি আগুনকে নিভিয়ে দেয়”। [তিরমিযী বর্ণনা করেছেন এবং আলবানী স্বহীহ বলেছেন, স্বহীহ আল জামি নং ২৯৫১]
১৩-সাদাকা আল্লাহর ভালবাসার কারণ: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: “আল্লাহর নিকট পছন্দনীয় সৎ কাজ হচ্ছে, মুসলিম ব্যক্তিকে খুশী করা কিংবা তার কষ্ট দূর করা কিংবা তার ক্ষুধা নিবারণ করা কিংবা তার ঋণ পরিশোধ করা”। [স্বহীহুত তারগীব ওয়াত্ তারহীব]
১৪-সাদাকাকারীর জন্য প্রত্যেক দিন ফেরেশতা দুআ করেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: “প্রতিদিন মানুষ যখন সকাল করে, তখন দুই জন ফেরেশতা অবতরণ করে। তাদের একজন বলে: হে আল্লাহ! তুমি (সৎ কাজে) ব্যয়কারীকে তার প্রতিদান দাও। আর দ্বিতীয় জন বলে: হে আল্লাহ! (আল্লাহ যা জরুরি করেছেন তা) ব্যয় না কারীর (সম্পদকে) ধ্বংস করে দাও”। [বুখারী, যাকাত অধ্যায়/১৩৭৪]
১৫-সাদাকার সওয়াব মৃত্যুর পরেও অব্যাহত থাকে: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: “আদম সন্তান মারা গেলে তার সৎ আমল সমাপ্ত হয়ে যায় তিনটি ব্যতীত: ১-সাদাকায়ে জারিয়া ২-উপকারী ইলম ৩-সৎ সন্তান যে তার জন্য দুআ করে”। [মুসলিম, অসিয়ত অধ্যায়]
১৬-সাদাকা জান্নাতে প্রবেশের কারণ: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ “হে লোকেরা! আপসে সালাম বিনিময় কর, অন্যকে খাবার খাওয়াও, আত্মীয়তা বজায় রাখ এবং রাত্রে নামায আদায় কর যখন লোকেরা নিদ্রায় থাকে, তাহলে অভিবাদনের সাথে জান্নাতে প্রবেশ করবে”। [হাদীসটি তিরমিযী বর্ণনা করেছেন, নং (২৪৯০) এবং শাইখ আলবানী স্বহীহ বলেছেন]
পরিশেষে প্রিয়/প্রিয়া পাঠক/পাঠিকাদের নিকট আবেদন করব, স্বল্প হলেও নফল সাদাকা করুন এবং করার অভ্যাস করুন। কারণ প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ (অর্ধেক খেজুর সাদাকা করে হলেও জাহান্নাম থেকে বেঁচে থাক)
মহান আল্লাহ আমাদেরকে যাকাত আদায়ের পাশাপাশি অধিক পরিমাণে দান-সদকা করে তার প্রিয়ভাজন বান্দাদের অন্তর্ভূক্ত করে নিন। আমীন।
ওয়া স্বাল্লাল্লাহু আলা নাবিয়্যিনা মুহাম্মদ, তাসলীমান মাযীদান।
  1. Mohammed Raisuddin.
    আসসালামু আলাইকুম, এখানে সাদকার গুরুত্ত বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হয়েছে কিন্তু যাকাতের গুরুত্ত কতটুকু তা বলা হয় নাই-দয়া করে এ বিষয়ে কিছু বলবেন কি ?
     https://wordpress.com/read/post/feed/25374124/769626493

Saturday, 11 July 2015

যাকাতুল ফিতরের সঠিক বিধান জেনে নিন : এক ‘সা’ এর পরিমাণ হচ্ছে, দুই কেজি চল্লিশ গ্রাম ভালো গম


যাকাতুল ফিতরের সঠিক বিধান জেনে নিন-
যাকাতুল ফিতর ফরয। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমযান শেষে ঈদুল ফিতরের সময় তা ফরয করেছেন। আব্দুল্লাহ ইবন ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বলেন: “রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গোলাম, স্বাধীন, পুরুষ, নারী, ছোট-বড় সকল মুসলিমের উপর সদকাতুল ফিতর ফরয করেছেন”। (বুখারি-১৫১১)
সদকাতুল ফিতরের পরিমাণ এক ‘সা’, দেশের প্রচলিত খাদ্য থেকে তা পরিশোধ করতে হবে। আবু সায়িদ খুদরি রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন: “আমরা ঈদুল ফিতরের দিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে এক ‘সা’ খাদ্য প্রদান করতাম, তখন আমাদের খাদ্য ছিল গম, কিশমিশ, পনির ও খেজুর”। (বুখারি-১৫১০)
অতএব টাকা, বিছানা, পোশাক ও জীব জন্তুর খাদ্য দ্বারা সদকাতুল ফিতর আদায় হবে না, কারণ এটা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নির্দেশের বিপরীত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: 
“যে এমন আমল করল, যার উপর আমাদের আদর্শ নেই তা পরিত্যক্ত”। (বুখারি-২০,২৬৯৭, মুসলিম-১৭১৮)
এক ‘সা’ এর পরিমাণ হচ্ছে, দুই কেজি চল্লিশ গ্রাম ভালো গম। এটা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ‘সা’, যার দ্বারা তিনি সদকাতুল ফিতর নির্ধারণ করেছেন।(চাউল বা অন্য খাদ্যের ক্ষেত্রে আড়াই কেজি সঠিক বলেছেন উলামাগন) 
ঈদের সালাতের আগে সদকাতুল ফিতর বের করা ওয়াজিব, তবে উত্তম হচ্ছে ঈদের দিন সালাতের পূর্বে সদকাতুল ফিতর আদায় করা। ঈদের একদিন বা দু’দিন পূর্বেও আদায় করা বৈধ। সালাতের পরে দিলে আদায় হবে না। আব্দুল্লাহ ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম “বেহুদা ও অশ্লীলতা থেকে সওমকে পবিত্র করা ও মিসকিনদের খাদ্য স্বরূপ সদকাতুল ফিতর ওয়াজিব করেছেন। যে তা সালাতের পূর্বে আদায় করল, সেটাই গ্রহণযোগ্য সদকা, আর যে তা সালাতের পরে আদায় করল, সেটা অন্যান্য সদকার ন্যায় সাধারণ সদকা”। (আবু দাউদ-১৬০৯, ইবন মাজাহ-১৮২৭)
আর যদি কেউ ঈদের সালাত শেষ হয়ে যাওয়ার পর ঈদ সম্পর্কে জানতে পারে, অথবা সদকাতুল ফিতর ওয়াজিব হওয়ার সময় মরুভূমিতে থাকে, অথবা এমন জায়গায় থাকে যেখানে সদকা গ্রহণ করার কেউ নেই, তাহলে সুযোগ মত আদায় করলেই হবে। আল্লাহ ভাল জানেন।
(সিয়াম, তারাবীহ ও যাকাত বিষয়ে কয়েকটি অধ্যায়-শাইখ মুহাম্মাদ সালেহ আল-উসাইমীন রাহিমাহুল্লাহ)

সুতরাং ছোট-বড় প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য আড়াই কেজি করে চাউল ফেতরা হিসাবে দিতে হবে যেহেতু হাদিসে বলা হয়েছে যে, সাহাবা (রাঃ)-দের খাদ্য ছিল গম, কিশমিশ, পনির ও খেজুর এবং তারা সেই খাদ্য থেকেই ফেতরা দিতেন আর এখন আমাদের খাদ্য হচ্ছে চাউল সুতরাং চাউল দিয়েই অথবা হাদিসে বর্ণিত বাকি খাদ্য দিয়েই ফেতরা দিতে হবে, টাঁকা দিয়ে দিলে ফেতরা আদায় হবে না, এটা রাসুলের সুন্নাহ বহির্ভূত। আর ফেতরার জন্য আপনাকে যাকাতের পরিমাণ টাঁকা থাকতে হবে এমন নয় বরং ঈদের দিনে এবং রাতে আপনাদের পরিবারের খাবার বেবস্থা থাকার পর বাকী যা থাকবে তা থেকেই ফেতরা দিতে হবে সুতরাং সকলকেই ফেতরা দিতে হবে এবং ফেতরা শুধু ফকীর মিসকিনরাই গ্রহণ করবে।

Tuesday, 7 July 2015

যাকাতের হকদার কারা বা কাদেরকে যাকাত দিবেন



যাকাতের হকদার কারা বা কাদেরকে যাকাত দিবেন-
যাকাতের খাত ৮টি: 
১. ফকির: যাদের নিকট তাদের প্রয়োজনের অর্ধেকও নেই। বছরের ছয় মাস যে নিজের ও পরিবারের খরচের বহনে অক্ষম সেই ফকির। তার ও তার পরিবারের এক বছরের প্রয়োজন মোতাবেক তাকে যাকাত দেয়া হবে।
২. মিসকিন: যাদের নিকট তাদের প্রয়োজনের অর্ধেক বা তার চেয়ে অধিক রয়েছে, কিন্তু পূর্ণ বছরের খোরাক নেই, এদেরকে যাকাত থেকে অবশিষ্ট বছরের খাদ্য দেয়া যাবে। 
যদি কোন ব্যক্তির নিকট নগদ অর্থ নেই, কিন্তু তার অন্য উৎস, অথবা চাকুরী অথবা সামর্থ রয়েছে, যা তার প্রয়োজন পূরণে যথেষ্ট, তাকে যাকাতের অর্থ দেয়া যাবে না। কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
“ধনী ও কর্মঠ ব্যক্তিদের জন্য যাকাতে কোন অংশ নেই”। (আবু দাউদ-১৬৩৩, নাসায়ি-২৫৯৮)
৩. যাকাত উসুলে নিয়োজিত ব্যক্তিবর্গ: যাদেরকে সরকার যাকাত উত্তোলন, যাকাত বিতরণ ও যাকাত সংরক্ষণের জন্য নিয়োগ দেয়, তাদেরকে তাদের কর্ম মোতাবেক যাকাত থেকে পারিশ্রমিক দেয়া যাবে, যদিও তারা ধনী হয়।
৪. ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট করার জন্য বিশেষ ব্যক্তিবর্গ: যারা কোন সম্প্রদায়ের সরদার, যাদের ঈমান দুর্বল, তাদের ঈমানের দৃঢ়তা বৃদ্ধির জন্য যাকাত থেকে তাদেরকে দেয়া যাবে, যেন তারা ইসলামের প্রতি আহ্বানকারী ও তার আদর্শ ব্যক্তিরূপে গড়ে উঠে। 
৫. গর্দান মুক্ত করা: অর্থাৎ যাকাতের অর্থে গোলাম খরিদ করা ও আযাদ করা, চুক্তিবদ্ধদের মুক্ত হতে সাহায্য করা এবং মুসলিম বন্দীদের মুক্ত করার জন্য যাকাতের অর্থ ব্যয় করা।
৬. ঋণগ্রস্ত: যাদের নিকট তাদের ঋণ পরিশোধ করার অর্থ নেই, তাদের ঋণ পরিমাণ অর্থ কম/বেশী যাকাত থেকে দেয়া যাবে, যদিও তাদের খাদ্যের অভাব না থাকে। ঋণগ্রস্ত ব্যক্তি যদি এমন হয়, যার নিজের ও পরিবারের খাদ্যের ব্যবস্থা আছে, কিন্তু ঋণ পরিশোধ করার সামর্থ তার নেই, তাকে ঋণ পরিমাণ যাকাত দেয়া যাবে। 
৭. ফি সাবিলিল্লাহ বা আল্লাহর রাস্তা: অর্থাৎ আল্লাহর রাস্তায় জিহাদের জন্য যাকাত দেয়া যাবে। অতএব মুজাহিদদেরকে তাদের প্রয়োজন মোতাবেক যাকাতের অর্থ দেয়া জায়েয। যাকাতের অর্থ দিয়ে জিহাদের অস্ত্র খরিদ করাও বৈধ। আল্লাহর রাস্তার একটি হচ্ছে, শর‘য়ী ইলম। সুতরাং শর‘য়ী জ্ঞান অন্বেষণকারীকে তার প্রয়োজন মোতাবেক কিতাব ইত্যাদি ক্রয় করার জন্য যাকাতের অর্থ দেয়া বৈধ, তবে সে সচ্ছল হলে ভিন্ন কথা।
৮. ইবন সাবিল: অর্থাৎ মুসাফির, যার পথ খরচ শেষ হয়ে গেছে, তাকে যাকাত থেকে বাড়িতে পৌঁছার অর্থ দেয়া যাবে।
এরা সবাই যাকাতের খাত ও হকদার। আল্লাহ স্বয়ং কুরআনে এদের উল্লেখ করেছেন। এটা আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত ফরয, যা তিনি স্বীয় জ্ঞান ও প্রজ্ঞা থেকে তার বান্দাদের উপর ফরয করেছেন।
এ খাতসমূহ ব্যতীত অন্য কোন খাতে যাকাত ব্যয় করা যাবে না, যেমন, মসজিদ নির্মাণ অথবা রাস্তাঘাট তৈরী বা মেরামত; কেননা আল্লাহ যাকাতের খাত সুনির্দিষ্ট করে দিয়েছেন। নির্দিষ্ট করার পর তা আর অনির্দিষ্ট খাতে দেয়া যায় না।(শাইখ মুহাম্মাদ ইবনে সলেহ আল উসাইমিন (রঃ)- সিয়াম, তারাবীহ ও যাকাত বিষয়ে কয়েকটি অধ্যায়)

Wednesday, 1 July 2015

এবারের 'ফিতরা' কত ?



এবারের 'ফিতরা' কত ?
৬০ টাকা থেকে ১৬৬০ টাকা নাকি অন্য কিছু ! 
প্রতিবারই রামাদান এলে মানুষের প্রশ্ন থাকে এবারের ফিতরা কত ? অথচ আল্লাহ্‌র রাসুল (সাঃ) ১৪০০ বছর আগেই এর পরিমান নির্ধারণ করে গেছেন ! যারা সুন্নাহর অনুসরন করে ফিতরা আদায় করে থাকেন তাঁরা কখনো উক্ত প্রশ্নটি তুলেন না যে এবারের ফিতরা কত ! যারা সুন্নাহর অনুসরন বাদ দিয়ে দ্রব্য মূল্য দিয়ে তথা টাকা দিয়ে ফিতরা আদায় করেন তারাই মূলত প্রতিবছর এই সময় এলেই প্রশ্ন করেন এবারের ফিতরা কত !
ছাদাক্বাতুল ফিতর বা আমরা যেটিকে ফিতরা বলি তা, মুসলমান নারী-পুরুষ, ছোট-বড়, সকলের জন্য আদায় করা ফরয। এ মর্মে হাদীছে এসেছে,
ইবনে ওমর (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) স্বীয় উম্মতের ক্রীতদাস ও স্বাধীন, নারী ও পুরুষ, ছোট ও বড় সকলের উপর মাথা পিছু এক ছা‘ পরিমাণ খেজুর বা যব যাকাতুল ফিৎর হিসাবে ফরয করেছেন এবং তা ঈদগাহের উদ্দেশ্যে বের হওয়ার পূর্বেই আদায় করার নির্দেশ দিয়েছেন’।
{ বুখারী-মুসলিম, মিশকাত হা/১৮১৫}
উক্ত হাদিছ দ্বারা বুঝা যাচ্ছে, ফিতরা আদায় করতে হবে খাদ্যদ্রব্য দ্বারা, খাদ্যের মূল্য বা টাকা পয়সা নগত অর্থ ফিতরা গ্রহণকারীর হাতে সরাসরি উঠিয়ে দিয়ে নয় ! আর তা আদায় করতে হবে প্রত্যেকের জন্য মাথাপিছু এক ছা‘ খাদ্যশস্য , ‘ছা’ হচ্ছে তৎকালীন সময়ের এক ধরনের ওযন করার পাত্র। নবী করীম (ছাঃ)-এর যুগের ছা‘ হিসাবে এক ছা‘-তে সবচেয়ে ভাল গম ২ কেজি ৪০ গ্রাম হয়। বিভিন্ন ফসলের ছা‘ ওযন হিসাবে বিভিন্ন হয়। এক ছা‘ চাউল প্রায় ২ কেজি ৫০০ গ্রাম হয়। তবে ওযন হিসাবে এক ছা‘ গম, যব, ভুট্টা, খেজুর ইত্যাদি ২ কেজি ২২৫ গ্রামের বেশী এদিক সেদিক হয়ে থাকে। সতর্কতা হিসেবে অনেকে ৩ কেজি নির্ধারন করতে বলেন।
প্রত্যেক দেশের প্রধান খাদ্য দিয়ে ফিৎরা আদায় করবে। মানে যে দেশের মানুষের যেটা প্রধান খাদ্যদ্রব্য সেটা দিয়েই ফিতরা আদায় করবে। আমাদের এই কৃষি প্রধান দেশে প্রধান খাদ্য (طعام) চাউল। সেকারণ চাউল দিয়ে ছাদাক্বাতুল ফিতর আদায় করাই উত্তম। খাদ্যশস্যের মূল্য দিয়ে ছাদাক্বাতুল ফিতর প্রদানের স্বপক্ষে কুরআন-হাদীছে স্পষ্ট কোন দলীল নেই। সুতরাং মুদ্রা দিয়ে ফিৎরা আদায় করা সুন্নাহর বিরোধী কাজ। 
খাদ্যশস্য ব্যতীত অর্থ কিংবা দীনার-দিরহাম দিয়ে ফিৎরা আদায় করেছেন মর্মে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ), ছাহাবায়ে কেরাম, তাবেঈ ও তাবে-তাবেঈদের কোন আমল পাওয়া যায় না। তাছাড়াও রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর পূর্ব যুগ হ’তেই মক্কা-মদীনায় দিরহাম-দীনার প্রভৃতি মুদ্রার প্রচলন ছিল। কিন্তু তিনি এক ছা‘ খাদ্যশস্যের মূল্য হিসাবে দিরহাম প্রদানের নির্দেশ দেননি। বরং খাদ্যশস্য দিয়ে ছাদাক্বাতুল ফিতর আদায় ওয়াজিব করেছেন। আলহামদুলিল্লাহ্‌ !!! সৌদি আরাবিয়াতে এই সুন্নাতি আমলের প্রতি লক্ষ্য রেখে সৌদি নাগরিকেরা এখনো খাদ্যদ্রব্য দিয়েই ফিতরা দিয়ে থাকে, রামাদানের শেষের দিকে দেখা যায় প্রতিটি রাস্তার মোড়ে মার্কেটের মোড়ে মোড়ে ফিতরার চাউলের ৫/১০/২০ কেজি বস্তা স্তূপ করে রাখা হয়, ফিতরা আদায়কারী ব্যক্তিরা তা এসে কিনে নিয়ে যায়। — at Dammam City, KINGDOM OF SAUDI ARABIA.

 এর পরিমান নির্ধারণ করে গেছেন ! যারা সুন্নাহর অনুসরন করে ফিতরা আদায় করে থাকেন তাঁরা কখনো উক্ত প্রশ্নটি তুলেন না যে এবারের ফিতরা কত ! যারা সুন্নাহর অনুসরন বাদ দিয়ে দ্রব্য মূল্য দিয়ে তথা টাকা দিয়ে ফিতরা আদায় করেন তারাই মূলত প্রতিবছর এই সময় এলেই প্রশ্ন করেন এবারের ফিতরা কত ! 
ছাদাক্বাতুল ফিতর বা আমরা যেটিকে ফিতরা বলি তা, মুসলমান নারী-পুরুষ, ছোট-বড়, সকলের জন্য আদায় করা ফরয। এ মর্মে হাদীছে এসেছে,
ইবনে ওমর (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) স্বীয় উম্মতের ক্রীতদাস ও স্বাধীন, নারী ও পুরুষ, ছোট ও বড় সকলের উপর মাথা পিছু এক ছা‘ পরিমাণ খেজুর বা যব যাকাতুল ফিৎর হিসাবে ফরয করেছেন এবং তা ঈদগাহের উদ্দেশ্যে বের হওয়ার পূর্বেই আদায় করার নির্দেশ দিয়েছেন’।
{ বুখারী-মুসলিম, মিশকাত হা/১৮১৫}
উক্ত হাদিছ দ্বারা বুঝা যাচ্ছে, ফিতরা আদায় করতে হবে খাদ্যদ্রব্য দ্বারা, খাদ্যের মূল্য বা টাকা পয়সা নগত অর্থ ফিতরা গ্রহণকারীর হাতে সরাসরি উঠিয়ে দিয়ে নয় ! আর তা আদায় করতে হবে প্রত্যেকের জন্য মাথাপিছু এক ছা‘ খাদ্যশস্য , ‘ছা’ হচ্ছে তৎকালীন সময়ের এক ধরনের ওযন করার পাত্র। নবী করীম (ছাঃ)-এর যুগের ছা‘ হিসাবে এক ছা‘-তে সবচেয়ে ভাল গম ২ কেজি ৪০ গ্রাম হয়। বিভিন্ন ফসলের ছা‘ ওযন হিসাবে বিভিন্ন হয়। এক ছা‘ চাউল প্রায় ২ কেজি ৫০০ গ্রাম হয়। তবে ওযন হিসাবে এক ছা‘ গম, যব, ভুট্টা, খেজুর ইত্যাদি ২ কেজি ২২৫ গ্রামের বেশী এদিক সেদিক হয়ে থাকে। সতর্কতা হিসেবে অনেকে ৩ কেজি নির্ধারন করতে বলেন।
প্রত্যেক দেশের প্রধান খাদ্য দিয়ে ফিৎরা আদায় করবে। মানে যে দেশের মানুষের যেটা প্রধান খাদ্যদ্রব্য সেটা দিয়েই ফিতরা আদায় করবে। আমাদের এই কৃষি প্রধান দেশে প্রধান খাদ্য (طعام) চাউল। সেকারণ চাউল দিয়ে ছাদাক্বাতুল ফিতর আদায় করাই উত্তম। খাদ্যশস্যের মূল্য দিয়ে ছাদাক্বাতুল ফিতর প্রদানের স্বপক্ষে কুরআন-হাদীছে স্পষ্ট কোন দলীল নেই। সুতরাং মুদ্রা দিয়ে ফিৎরা আদায় করা সুন্নাহর বিরোধী কাজ। 
খাদ্যশস্য ব্যতীত অর্থ কিংবা দীনার-দিরহাম দিয়ে ফিৎরা আদায় করেছেন মর্মে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ), ছাহাবায়ে কেরাম, তাবেঈ ও তাবে-তাবেঈদের কোন আমল পাওয়া যায় না। তাছাড়াও রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর পূর্ব যুগ হ’তেই মক্কা-মদীনায় দিরহাম-দীনার প্রভৃতি মুদ্রার প্রচলন ছিল। কিন্তু তিনি এক ছা‘ খাদ্যশস্যের মূল্য হিসাবে দিরহাম প্রদানের নির্দেশ দেননি। বরং খাদ্যশস্য দিয়ে ছাদাক্বাতুল ফিতর আদায় ওয়াজিব করেছেন। আলহামদুলিল্লাহ্‌ !!! সৌদি আরাবিয়াতে এই সুন্নাতি আমলের প্রতি লক্ষ্য রেখে সৌদি নাগরিকেরা এখনো খাদ্যদ্রব্য দিয়েই ফিতরা দিয়ে থাকে, রামাদানের শেষের দিকে দেখা যায় প্রতিটি রাস্তার মোড়ে মার্কেটের মোড়ে মোড়ে ফিতরার চাউলের ৫/১০/২০ কেজি বস্তা স্তূপ করে রাখা হয়, ফিতরা আদায়কারী ব্যক্তিরা তা এসে কিনে নিয়ে যায়।
Like · Comment · 




বিশ্বের সবচেয়ে বড় ইফতারের আয়োজন টি হয়ে থাকে সাউদি আরাবের মদিনার "মসজিদে নববী" বা রাসুলুল্লাহ (সাঃ) এর মাসজিদে! 
প্রায় ১২ হাজার মিটার জুড়ে এর দস্তরখানা বিছানো হয়ে থাকে!
এক সাথে প্রতিদিন প্রায় সাড়া বিশ্বের থেকে আগত আনুমানিক ৩ লক্ষ মানুষ ইফতার করতে পারে।
এতে প্রতিদিন সাউদি সরকারের প্রায় ১ মিলিয়ন রিয়াল খরচ হয়ে থাকে যা বাংলা টাকায় ২ কোটি টাকার উপরে! এই ইফতারের মধ্যে থাকে ১ লাখ ৩০ হাজার লিটারের জমজমেরপানি, ৫০ হাজার লিটার এরাবিয়ান কফি, ৩ লক্ষ পিছ রুটি, ৫০ হাজার প্যাকেট দই, ৫০ হাজার দুধের মিনি বতল, ৫০ হাজার জুসের বতল এবং ৪০ টন খেজুর!
এছাড়াও মদিনার স্থানীয় মানুষেরা যার যার বাড়ী থেকে নিজেদের গাছের খেজুর ও নানা ধরনের খাবার নিয়ে এসে সেখানে অবস্থানরত বিভিন্ন দেশের উমরাহ পালনকারী রোজাদার দের মাঝে বিতরন করেন।
ইফতারের ১৫ মিনিটের মধ্যেই সেখানের সকল কিছু একেবারে ধুয়ে মুছে ক্লিন করে ফেলা হয় অত্যাধুনিক মেশিনের মাধ্যমে!
উপরে ছবিতে মদিনার গভর্নর আমীর ফায়সাল বিন সালমান কে দেখা যাচ্ছে ইফতারের জন্য অপেক্ষারত অবস্থায়।
 — atDammam City, KINGDOM OF SAUDI ARABIA.
Like · Share

গতকাল খাদেমুল হারামাইন আশ শারিফাইন সাউদি বাদশা সালমান বিন আব্দুল আযিয (হাফেযাহুমাল্লাহ) মদিনা মসজিদে নববী জিয়ারতে যান, অতঃপর রাসুলুল্লাহ (সাঃ) এর কবর জিয়ারত করেন। এ সময় তার সাথে ছিলেন কাবার সম্মানিত ইমাম আব্দুর রাহমান আস সুদাইসি (হাফেযাহুমাল্লাহ)।
রাসুলুল্লাহ (সাঃ) এর কবরের পাশে যদি,
বাংলাদেশের মত কথিত অলী-আওলিয়া দের মাজার নামক কবরের পাশে যেভাবে দান বাক্স রাখা হয়, সেভাবে যদি এখানেও রাখা হত, তাহলে আমার মনে হয় যা টাকা উঠতো তা দিয়ে সাউদি সরকার তার দেশের বাজেট প্রনয়ন করতে পারতো! কিন্তু, ধর্মের নামে ব্যবসার লাইসেন্স সাউদি আরবে নেই! — at Dammam City, KINGDOM OF SAUDI ARABIA.
Like · Share
  • Talha KhaledAbu Anas and 381 others like this.
  • Muhammad Aslam Uddin dan box bussiness korle budjet korle Allah tokon rag korten
    Like · 23 hrs
  • Talha Khaled আমীর নায়েফ বিন আব্দুল আজিজ(রহঃ) আন্তর্জাতিক পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করতে মাদিনায় পৌঁছে মাসজিদুল-হারাম আন-নববীতে সালাত আদায় করেছেন কাবার ইমাম আব্দুর রাহমান আস সুদাইসির বায়ে যুবরাজ প্রিন্স মোহাম্মাদ বিন নায়েফ বিন আবদুল আজিজ এবং তার হাতের ডানে উপ-যুবরাজ প্রতিরক্ষা মন্ত্রী প্রিন্স মুহাম্মদ বিন সালমান বিন আবদুল আজিজ।
    প্রতি বছর এই পুরস্কার নবীজির সুন্নাহ এবং সমসাময়িক বিষয়ে ইসলামিক গবেষণায় অংশগ্রহণ কারীদের দেয়া হয়।
    Like · 12 · 23 hrs · Edited
  • Borhan Uddin Foyez শাইখ সুদাইস দেখি নাভির মধ্যে হাত বাধে
    Like · 4 · 22 hrs
    • Abdullah Bin Abdur Razzaq সৌদী আরবে বুকে হাত বাধা পায়ের সাথে পা মিলানো এবং শেষ বৈঠকে ডান পায়ের নিচ দিয়ে বাম পা বের করে দেয়া এই কয়টি আমলের বিষয়ে প্রচুর অবহেলা দেখেছি।
      Like · 4 · 22 hrs · Edited
    • Borhan Uddin Foyez আব্দুল্লাহ ভাই,আমার একটা প্রস্ন যে,পায়ের সাথে পা মিলাতে গিয়ে দু'পায়ের মাঝে অতিরিক্ত অনাকাঙ্খিত অশোভনীয় ফাঁক সৃষ্টি করা কি ঠিক? এতে নামাজের সৌন্দর্য নষ্ট হয়।
      Like · 4 · 21 hrs
    • আহমেদ সিপন সালাফী আবার কখনো দেখি বুকের উপর বাধেন,এই দুরখম নিতি কেনো উনার?
      Like · 1 · 10 hrs
  • Talha Khaled হুম বাধে।
    Like · 2 · 22 hrs
  • Ali HasanTaib হাফিজাহুমাল্লাহ।
    Like · 21 hrs
  • Like · 18 hrs
  • Motaleb Chaiyal sundor Bolechen.....
    Like · 18 hrs
  • Biplob Dewan বাঙালী জাতীর মাঝে যদি কোন নাবী'র সমাধি থাকতো তাহলে কি যে হতো তা একমাত্র অাল্লাহই ভাল জানেন,,,
    Like · 3 · 15 hrs
  • Faruk Hossain Bin Siraj মাশা-আল্লাহ
    Like · 1 · 9 hrs


29 mins · Edited · 
 

এবারের 'ফিতরা' কত ?
৬০ টাকা থেকে ১৬৬০ টাকা নাকি অন্য কিছু ! 
প্রতিবারই রামাদান এলে মানুষের প্রশ্ন থাকে এবারের ফিতরা কত ? অথচ আল্লাহ্‌র রাসুল (সাঃ) ১৪০০ বছর আগেই এর পরিমান নির্ধারণ করে গেছেন ! যারা সুন্নাহর অনুসরন করে ফিতরা আদায় করে থাকেন তাঁরা কখনো উক্ত প্রশ্নটি তুলেন না যে এবারের ফিতরা কত ! যারা সুন্নাহর অনুসরন বাদ দিয়ে দ্রব্য মূল্য দিয়ে তথা টাকা দিয়ে ফিতরা আদায় করেন তারাই মূলত প্রতিবছর এই সময় এলেই প্রশ্ন করেন এবারের ফিতরা কত !
ছাদাক্বাতুল ফিতর বা আমরা যেটিকে ফিতরা বলি তা, মুসলমান নারী-পুরুষ, ছোট-বড়, সকলের জন্য আদায় করা ফরয। এ মর্মে হাদীছে এসেছে,
ইবনে ওমর (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) স্বীয় উম্মতের ক্রীতদাস ও স্বাধীন, নারী ও পুরুষ, ছোট ও বড় সকলের উপর মাথা পিছু এক ছা‘ পরিমাণ খেজুর বা যব যাকাতুল ফিৎর হিসাবে ফরয করেছেন এবং তা ঈদগাহের উদ্দেশ্যে বের হওয়ার পূর্বেই আদায় করার নির্দেশ দিয়েছেন’।
{ বুখারী-মুসলিম, মিশকাত হা/১৮১৫}
উক্ত হাদিছ দ্বারা বুঝা যাচ্ছে, ফিতরা আদায় করতে হবে খাদ্যদ্রব্য দ্বারা, খাদ্যের মূল্য বা টাকা পয়সা নগত অর্থ ফিতরা গ্রহণকারীর হাতে সরাসরি উঠিয়ে দিয়ে নয় ! আর তা আদায় করতে হবে প্রত্যেকের জন্য মাথাপিছু এক ছা‘ খাদ্যশস্য , ‘ছা’ হচ্ছে তৎকালীন সময়ের এক ধরনের ওযন করার পাত্র। নবী করীম (ছাঃ)-এর যুগের ছা‘ হিসাবে এক ছা‘-তে সবচেয়ে ভাল গম ২ কেজি ৪০ গ্রাম হয়। বিভিন্ন ফসলের ছা‘ ওযন হিসাবে বিভিন্ন হয়। এক ছা‘ চাউল প্রায় ২ কেজি ৫০০ গ্রাম হয়। তবে ওযন হিসাবে এক ছা‘ গম, যব, ভুট্টা, খেজুর ইত্যাদি ২ কেজি ২২৫ গ্রামের বেশী এদিক সেদিক হয়ে থাকে। সতর্কতা হিসেবে অনেকে ৩ কেজি নির্ধারন করতে বলেন।
প্রত্যেক দেশের প্রধান খাদ্য দিয়ে ফিৎরা আদায় করবে। মানে যে দেশের মানুষের যেটা প্রধান খাদ্যদ্রব্য সেটা দিয়েই ফিতরা আদায় করবে। আমাদের এই কৃষি প্রধান দেশে প্রধান খাদ্য (طعام) চাউল। সেকারণ চাউল দিয়ে ছাদাক্বাতুল ফিতর আদায় করাই উত্তম। খাদ্যশস্যের মূল্য দিয়ে ছাদাক্বাতুল ফিতর প্রদানের স্বপক্ষে কুরআন-হাদীছে স্পষ্ট কোন দলীল নেই। সুতরাং মুদ্রা দিয়ে ফিৎরা আদায় করা সুন্নাহর বিরোধী কাজ। 
খাদ্যশস্য ব্যতীত অর্থ কিংবা দীনার-দিরহাম দিয়ে ফিৎরা আদায় করেছেন মর্মে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ), ছাহাবায়ে কেরাম, তাবেঈ ও তাবে-তাবেঈদের কোন আমল পাওয়া যায় না। তাছাড়াও রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর পূর্ব যুগ হ’তেই মক্কা-মদীনায় দিরহাম-দীনার প্রভৃতি মুদ্রার প্রচলন ছিল। কিন্তু তিনি এক ছা‘ খাদ্যশস্যের মূল্য হিসাবে দিরহাম প্রদানের নির্দেশ দেননি। বরং খাদ্যশস্য দিয়ে ছাদাক্বাতুল ফিতর আদায় ওয়াজিব করেছেন। আলহামদুলিল্লাহ্‌ !!! সৌদি আরাবিয়াতে এই সুন্নাতি আমলের প্রতি লক্ষ্য রেখে সৌদি নাগরিকেরা এখনো খাদ্যদ্রব্য দিয়েই ফিতরা দিয়ে থাকে, রামাদানের শেষের দিকে দেখা যায় প্রতিটি রাস্তার মোড়ে মার্কেটের মোড়ে মোড়ে ফিতরার চাউলের ৫/১০/২০ কেজি বস্তা স্তূপ করে রাখা হয়, ফিতরা আদায়কারী ব্যক্তিরা তা এসে কিনে নিয়ে যায়।
 — at Dammam City, KINGDOM OF SAUDI ARABIA.
Like · Share

25 mins · Edited · 
 

এবারের 'ফিতরা' কত ?
৬০ টাকা থেকে ১৬৬০ টাকা নাকি অন্য কিছু ! 
প্রতিবারই রামাদান এলে মানুষের প্রশ্ন থাকে এবারের ফিতরা কত ? অথচ আল্লাহ্‌র রাসুল (সাঃ) ১৪০০ বছর আগেই এর পরিমান নির্ধারণ করে গেছেন ! যারা সুন্নাহর অনুসরন করে ফিতরা আদায় করে থাকেন তাঁরা কখনো উক্ত প্রশ্নটি তুলেন না যে এবারের ফিতরা কত ! যারা সুন্নাহর অনুসরন বাদ দিয়ে দ্রব্য মূল্য দিয়ে তথা টাকা দিয়ে ফিতরা আদায় করেন তারাই মূলত প্রতিবছর এই সময় এলেই প্রশ্ন করেন এবারের ফিতরা কত !
ছাদাক্বাতুল ফিতর বা আমরা যেটিকে ফিতরা বলি তা, মুসলমান নারী-পুরুষ, ছোট-বড়, সকলের জন্য আদায় করা ফরয। এ মর্মে হাদীছে এসেছে,
ইবনে ওমর (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) স্বীয় উম্মতের ক্রীতদাস ও স্বাধীন, নারী ও পুরুষ, ছোট ও বড় সকলের উপর মাথা পিছু এক ছা‘ পরিমাণ খেজুর বা যব যাকাতুল ফিৎর হিসাবে ফরয করেছেন এবং তা ঈদগাহের উদ্দেশ্যে বের হওয়ার পূর্বেই আদায় করার নির্দেশ দিয়েছেন’।
{ বুখারী-মুসলিম, মিশকাত হা/১৮১৫}
উক্ত হাদিছ দ্বারা বুঝা যাচ্ছে, ফিতরা আদায় করতে হবে খাদ্যদ্রব্য দ্বারা, খাদ্যের মূল্য বা টাকা পয়সা নগত অর্থ ফিতরা গ্রহণকারীর হাতে সরাসরি উঠিয়ে দিয়ে নয় ! আর তা আদায় করতে হবে প্রত্যেকের জন্য মাথাপিছু এক ছা‘ খাদ্যশস্য , ‘ছা’ হচ্ছে তৎকালীন সময়ের এক ধরনের ওযন করার পাত্র। নবী করীম (ছাঃ)-এর যুগের ছা‘ হিসাবে এক ছা‘-তে সবচেয়ে ভাল গম ২ কেজি ৪০ গ্রাম হয়। বিভিন্ন ফসলের ছা‘ ওযন হিসাবে বিভিন্ন হয়। এক ছা‘ চাউল প্রায় ২ কেজি ৫০০ গ্রাম হয়। তবে ওযন হিসাবে এক ছা‘ গম, যব, ভুট্টা, খেজুর ইত্যাদি ২ কেজি ২২৫ গ্রামের বেশী এদিক সেদিক হয়ে থাকে। সতর্কতা হিসেবে অনেকে ৩ কেজি নির্ধারন করতে বলেন।
প্রত্যেক দেশের প্রধান খাদ্য দিয়ে ফিৎরা আদায় করবে। মানে যে দেশের মানুষের যেটা প্রধান খাদ্যদ্রব্য সেটা দিয়েই ফিতরা আদায় করবে। আমাদের এই কৃষি প্রধান দেশে প্রধান খাদ্য (طعام) চাউল। সেকারণ চাউল দিয়ে ছাদাক্বাতুল ফিতর আদায় করাই উত্তম। খাদ্যশস্যের মূল্য দিয়ে ছাদাক্বাতুল ফিতর প্রদানের স্বপক্ষে কুরআন-হাদীছে স্পষ্ট কোন দলীল নেই। সুতরাং মুদ্রা দিয়ে ফিৎরা আদায় করা সুন্নাহর বিরোধী কাজ। 
খাদ্যশস্য ব্যতীত অর্থ কিংবা দীনার-দিরহাম দিয়ে ফিৎরা আদায় করেছেন মর্মে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ), ছাহাবায়ে কেরাম, তাবেঈ ও তাবে-তাবেঈদের কোন আমল পাওয়া যায় না। তাছাড়াও রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর পূর্ব যুগ হ’তেই মক্কা-মদীনায় দিরহাম-দীনার প্রভৃতি মুদ্রার প্রচলন ছিল। কিন্তু তিনি এক ছা‘ খাদ্যশস্যের মূল্য হিসাবে দিরহাম প্রদানের নির্দেশ দেননি। বরং খাদ্যশস্য দিয়ে ছাদাক্বাতুল ফিতর আদায় ওয়াজিব করেছেন। আলহামদুলিল্লাহ্‌ !!! সৌদি আরাবিয়াতে এই সুন্নাতি আমলের প্রতি লক্ষ্য রেখে সৌদি নাগরিকেরা এখনো খাদ্যদ্রব্য দিয়েই ফিতরা দিয়ে থাকে, রামাদানের শেষের দিকে দেখা যায় প্রতিটি রাস্তার মোড়ে মার্কেটের মোড়ে মোড়ে ফিতরার চাউলের ৫/১০/২০ কেজি বস্তা স্তূপ করে রাখা হয়, ফিতরা আদায়কারী ব্যক্তিরা তা এসে কিনে নিয়ে যায়।
 — at Dammam City, KINGDOM OF SAUDI ARABIA.
Like · Share